ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর ভাটারায় পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নেপালি নাগরিক বিনিশার আত্মহত্যার ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছেন সহপাঠীরা। তাদের দাবি, পরীক্ষায় খারাপ কিংবা যে কোনো ভুলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বাড়তি অর্থ আদায় করেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সবাই আতঙ্কে থাকে। এই চাপ ও আতঙ্কের কারণেই বিনিশা আত্মহত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ইন্টার্ন ডাক্তার ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিনিশার আত্মহত্যার রহস্য উন্মোচনসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
ইন্টার্ন ডাক্তার সালমান রহমান বলেন, পরীক্ষায় খারাপ কিংবা যে কোনো ভুলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করেন। এ নিয়ে আমরা সবাই আতঙ্কে থাকি। এই চাপ ও আতঙ্কের কারণেই বিনিশা আত্মহত্যা করেছেন।
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিশার আত্মহত্যার নেপথ্য কারণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বিনা নোটিশে ফাইনাল অ্যাসেসমেন্টসহ সকব ধরনের পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ করেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো ভুল না থাকলে তারা কেন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দিবে?
বিনিশার সহপাঠী প্রীতম সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ৫ বছরের কোর্স আমরা ৭ বছরেও শেষ করতে পারি না। মৌখিক পরীক্ষায় একবার পাশ করি তো লিখিত পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়। আরেকবার লিখিত পাশ তো মৌখিক পরীক্ষায় ফেল। ফেল করলেই ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা সঙ্গে একটি বছরের টাকা আদায় করে। আবার এসব নিয়ে কথা বললেই ফেল করার হুমকি, চাপ আসে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষের কয়েকজন এসে আন্দোলনরতদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
দুপুরে শেষ খবর পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে টার্ম-২ পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে হোস্টেলের নিজ কক্ষে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বিনিশা। খবর পেয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় বিনিশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।